ফলে ২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। আগে ২-৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। এখন তা বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। খবর দ্য স্ট্রেট টাইমস।
বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে এআই-সংশ্লিষ্ট ব্যয় বাড়ার কারণে পূর্বাভাস সংশোধন করা হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর কয়েকজন অর্থনীতিবিদও সিঙ্গাপুরের ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সিঙ্গাপুরের জিডিপি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব বেহ সোয়ান জিন বলেন, ‘মে মাসে আগের পূর্বাভাস দেয়ার পর বিশ্বজুড়ে এআই খাতে বিনিয়োগ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। এতে এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন ও রফতানিতে গতি এসেছে। বছরের বাকি সময় এআই খাতে মূলধন ব্যয় আরো বাড়তে পারে। এর সুফল পেতে পারে বৈশ্বিক প্রযুক্তি মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতিগুলো।’
এআইয়ের চাহিদার কারণে সিঙ্গাপুরের উৎপাদন খাতও ভালো করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ইলেকট্রনিকস ও প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে শক্তিশালী চাহিদার এ প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তবে সব খাত একইভাবে ভালো করছে না বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। টানা দ্বিতীয় প্রান্তিকে সংকোচন হয়েছে রাসায়নিক ও বায়োমেডিক্যাল উৎপাদন খাতে।
এছাড়া খাদ্য ও পানীয় সেবা খাতেও সংকোচন হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিদেশ ভ্রমণ বাড়া ও বিদেশী পর্যটকের আগমন কমে যাওয়ার বিষয়টি এ খাতে প্রভাব ফেলেছে।
সিঙ্গাপুরের অর্থনীতির জন্য আরেকটি ঝুঁকি হলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত। তবে দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মতে, সংঘাতের প্রভাব প্রাথমিক আশঙ্কার চেয়ে কম হয়েছে। তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দাম বাড়লেও বিভিন্ন দেশ মজুদ তেল ব্যবহার এবং বিকল্প জ্বালানিতে যাওয়ায় দাম বাড়ার চাপ সীমিত রাখা গেছে।
তবে চলতি বছরের বাকি সময় জ্বালানি ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম উঁচু থাকতে পারে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতিও সিঙ্গাপুরের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সিঙ্গাপুরের রফতানিতে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। তবে আপাতত এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে মনে করছে সিঙ্গাপুর। দেশটির যুক্তরাষ্ট্রে মোট রফতানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ শুল্কের আওতায় পড়ছে। এর বার্ষিক মূল্য প্রায় ৯৪০ কোটি ডলার।